বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৬ অপরাহ্ন
ধেঁয়ে আসছে দেশের দিকে শক্তিশালী প্রায় পূর্ণাঙ্গ বৃষ্টি বলয় “ঝুমুল”!!
এটি একটি শক্তিশালী প্রায় পূর্ণাঙ্গ বৃষ্টি বলয়, মানে এই বৃষ্টি বলয়ে দেশের সকল এলাকায় কমবেশি বজ্রবৃষ্টি হতেপারে এবং নির্দিষ্ট কিছু স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষনও হতেপারে। এবং এই বৃষ্টি বলয়ে দেশের প্রায় ৭০-৯০ শতাংশ এলাকায় কমবেশি ঝড়বৃষ্টি হতে পারে।
এটি চলতি বছরের ৫ম বৃষ্টি বলয়।
সর্বাধিক সক্রিয়ঃ সিলেট বিভাগ
বেশ সক্রিয় : ময়মনসিংহ, রংপুর, ঢাকা বিভাগ এবং চট্টগ্রাম বিভাগের উত্তর অংশের বেশ কিছু এলাকা।
মাঝারি সক্রিয় : বরিশাল ও খুলনা বিভাগের অনেক এলাকা।
কম সক্রিয়: রাজশাহী বিভাগের কিছু এলাকা।
নামঃ বৃষ্টি বলয় ঝুমুল
টাইপ : শক্তিশালী প্রায় পূর্ণাঙ্গ বৃষ্টি বলয়।
কাভারেজ : দেশের মাত্র ৮০-৯০ শতাংশ এলাকা।
ধরন : প্রাক মৌসূমী বৃষ্টি বলয়
সময়কাল : ২৬ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে উল্লেখিত স্থানগুলোতে। তবে ২৫ এপ্রিলও দেশের উত্তরাঞ্চল সহ অন্যত্র কিছুকিছু স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে কিছুটা বজ্রবৃষ্টি হতেপারে কালবৈশাখী সহ।
সর্বোচ্চ সক্রিয় : ২৮ এপ্রিল থেকে ২ মে এবং ৪ ও ৬ মে ২০২৬
শিলাবৃষ্টি : আছে, বিক্ষিপ্তভাবে
কালবৈশাখী : আছে বেশিরভাগ এলাকায়
বজ্রপাত : মাঝারি থেকে তীব্র
★বন্যা : বৃষ্টি বলয় চলাকালীন সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের অতি বন্যা প্রবণ নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এছাড়া সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জ জেলার কিছুকিছু নিচু এলাকায় অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতেপারে সাময়িক সময়ের জন্য।
নোট : আরো নির্দিষ্ট তথ্যের জন্য বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস দেখুন।
পাহাড়ি ঢল : সম্ভাবনা আছে। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের উজানে ভারতীয় ভূখণ্ডে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষনের কারনে আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হতেপারে। এই পাহাড়ি ঢলের কারনে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের নদনদী গুলোতে ও হাওরে পানি আকস্মিক বৃদ্ধি পেতে পারে।
একটানা বর্ষন : আছে, বেশি সক্রিয় এলাকায়। বিশেষ করে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট জেলার বেশকিছু স্থানে।
সামুদ্রিক সিস্টেম : সম্ভাবনা কম।
ঝড় : এই বৃষ্টি বলয়ে দেশের অধিকাংশ এলাকায় বেশ কয়েকটি ৬০-৮০ কিমি/ঘন্টা বেগে কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে।
সাগর : বৃষ্টি বলয় চলাকালীন বায়ু চাপের তারতম্যের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকার সম্ভাবনা আছে।
পাহাড় ধসঃ এসময় সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকাতে পাহাড় ধ্বসের কিছুটা আশঙ্কা রয়েছে ভারী বর্ষনের কারনে।
নোট : বৃষ্টিবলয় “ঝুমুল” চলাকালীন সময়ে দেশের আকাশ অধিকাংশ সময়েই মেঘলা থাকতে পারে। তবে যখন বৃষ্টি বন্ধ থাকবে তখন রোদের দেখাও মিলতে পারে। বেশিরভাগ বৃষ্টি দুপুর থেকে রাতের মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, এছাড়া মাঝেমধ্যে সকালেও বৃষ্টি হতেপারে। যা নির্ভর করবে উক্ত সময়ের আবহাওয়া প্যারামিটার ও মেঘের মুভমেন্টের উপরে।
*এই বৃষ্টি বলয় চলাকালীন সময়ে দেশের প্রায় ৬০-৭০% এলাকায় পানি সেচের চাহিদা পুরন হতে পারে।
বৃষ্টিবলয় ঝুমুল চলাকালীন সময়ে দেশের উপরে তাপপ্রবাহ সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা কম। এসময় দেশের অধিকাংশ স্থানের আবহাওয়া বেশ আরামদায়ক থাকতে পারে। তবে বৃষ্টি বন্ধ থাকার সময়ে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের দুএক জায়গায় সাময়িক সময়ের জন্য ৩৬/৩৭° সেলসিয়াসের ঘরে উঠতে পারে।
ঝুমুল চলাকালীন সময়ে বেশি সক্রিয় স্থানে রোদের উপস্থিতি কম পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে সিলেট, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতে।
মেঘের অভিমুখ: বেশিরভাগ বৃষ্টিবাহী মেঘের গতিপথ উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে হতে পারে। এবং মাঝে মাঝে এলোমেলো গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।
আসুন একনজরে দেখেনেই বৃষ্টি বলয় ঝুমুল চলাকালীন সময়ে দেশের কোন বিভাগে গড়ে কত মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। ও বৃষ্টি বলয়ের ১২ দিনে কোন বিভাগে গড়ে কত দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।
ঢাকা ১২০-১৫০ মিলিমিটার, প্রায় ৪-৫ দিনে
খুলনা ৯০-১২০ মিলিমিটার, প্রায় ৩-৫ দিনে
বরিশাল ১০০-১৩০ মিলিমিটার , প্রায় ৪-৫ দিনে
সিলেট ৩০০-৪০০ মিলিমিটার, প্রায় ৭-৯ দিনে
ময়মনসিংহ ২৫০-৩০০ মিলিমিটার , প্রায় ৬-৭ দিনে
রাজশাহী ৬০-৯০ মিলিমিটার, প্রায় ৩-৪ দিনে
রংপুর ১২০-১৮০ মিলিমিটার, প্রায় ৪-৫ দিনে
চট্টগ্রাম ১০০-১৭৫ মিলিমিটার, প্রায় ৪-৫ দিনে
আসুন একনজরে দেখে নেই, বৃষ্টি বলয় ঝুমুল চলাকালীন সময়ে আপনার জেলায় গড়ে কত মিলিমিটার বৃষ্টি হতেপারে।
জেলার নাম। বৃষ্টির পরিমান (মিমি)
বরিশাল বিভাগ
===========
জেলা বৃষ্টিপাত (মিমি)
বরিশাল ১২০
ভোলা উত্তর ১৩০
ভোলা দক্ষিণ ১১০
বরগুনা ১০০
ঝালকাঠি ১২০
পটুয়াখালী উত্তর ১২০
পটুয়াখালী দক্ষিণ ১০০
পিরোজপুর উত্তর ১২০
পিরোজপুর দক্ষিণ ১১০
চট্টগ্রাম বিভাগ
===========
জেলা বৃষ্টিপাত (মিমি)
বান্দরবান উত্তর ১০০
বান্দরবান দক্ষিণ ৭৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০
চাঁদপুর ১৮০
চট্টগ্রাম উত্তর ১৪০
চট্টগ্রাম দক্ষিণ ১১০
কুমিল্লা উত্তর ২২০
কুমিল্লা দক্ষিণ ১৮০
কক্সবাজার উত্তর ৮৫
কক্সবাজার দক্ষিণ ৬০
সন্দ্বীপ ১৪০
ফেনী ১৬০
খাগড়াছড়ি উত্তর ১৮০
খাগড়াছড়ি দক্ষিণ ১৪৫
লক্ষ্মীপুর ১৫০
নোয়াখালী উত্তর ১৬০
নোয়াখালী দক্ষিণ ১২০
রাঙ্গামাটি উত্তর ১৪০
রাঙ্গামাটি দক্ষিণ ১২০
ঢাকা বিভাগ
===========
জেলা বৃষ্টিপাত (মিমি)
ঢাকা ১৬০
ফরিদপুর ১৪০
গাজীপুর ১৮০
গোপালগঞ্জ ১৩০
কিশোরগঞ্জ ২৭৫
মাদারীপুর ১৪০
মানিকগঞ্জ ১৪০
মুন্সিগঞ্জ ১৪০
নারায়ণগঞ্জ ১৬০
নরসিংদী ২০০
রাজবাড়ী ১২০
শরীয়তপুর ১৪০
টাঙ্গাইল ১৪০
ময়মনসিংহ বিভাগ
===========
জেলা বৃষ্টিপাত (মিমি)
জামালপুর ১৬০
ময়মনসিংহ উত্তর ২৮০
ময়মনসিংহ দক্ষিণ ২২০
নেত্রকোনা ৩০০
শেরপুর ২০০
খুলনা বিভাগ
===========
জেলা বৃষ্টিপাত (মিমি)
বাগেরহাট উত্তর ১২০
বাগেরহাট দক্ষিণ ১০০
চুয়াডাঙ্গা ১২০
যশোর ১১০
ঝিনাইদহ ১২০
খুলনা উত্তর ১১০
খুলনা দক্ষিণ ৯০
কুষ্টিয়া ১১০
মাগুরা ১৪০
মেহেরপুর ১১০
নড়াইল ১৩০
সাতক্ষীরা উত্তর ১০০
সাতক্ষীরা দক্ষিণ ৮০
রাজশাহী বিভাগ
===========
জেলা বৃষ্টিপাত (মিমি)
বগুড়া ১১০
জয়পুরহাট ৯৫
নওগাঁ ৭৫
নাটোর ৮৫
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫০
পাবনা ১০০
রাজশাহী ৬৫
সিরাজগঞ্জ ১০০
রংপুর বিভাগ
===========
জেলা বৃষ্টিপাত (মিমি)
দিনাজপুর ১২০
গাইবান্ধা ১৪০
কুড়িগ্রাম ২০০
লালমনিরহাট ১৮০
নীলফামারী ১৬০
পঞ্চগড় ১৫০
রংপুর ১৫০
ঠাকুরগাঁও ৯৫
সিলেট বিভাগ
===========
জেলা বৃষ্টিপাত (মিমি)
হবিগঞ্জ ৩০০
মৌলভীবাজার ৩৫০
সুনামগঞ্জ ৩৭৫
সিলেট ৪০০
পার্শ্ববর্তী অঞ্চল (ভারত)
পশ্চিমবঙ্গ
===========
উত্তর ২৪ পরগনা – ১১০
দক্ষিণ ২৪ পরগনা – ৮৫
দক্ষিণ মধ্য বঙ্গ – ১০০
কলকাতা – ৯০
দিঘা – ৭৫
মেদিনীপুর – ১০০
বাঁকুড়া – ৯০
পুরুলিয়া – ১০০
বর্ধমান – ৯০
আসানসোল – ৯০
বহরমপুর – ৭৫
মালদা – ৪৫
রায়গঞ্জ – ৫০
ইসলামপুর – ১২০
শিলিগুড়ি – ১৫০
দার্জিলিং – ১৮০
জলপাইগুড়ি – ২২০
কোচবিহার – ২৭০
ওডিশা
উত্তর ওডিশা – ৯০
পূর্ব-মধ্য ওডিশা – ৪৫
ঝাড়খণ্ড
উত্তর ঝাড়খণ্ড – ৪০
দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড – ৯৫
জামশেদপুর – ১২০
রাঁচি – ৭৫
দুমকা – ৫৫
বিহার
দক্ষিণ বিহার – ২০
পূর্ব বিহার – ৩০
উত্তর বিহার – ৫৫
আসাম
পশ্চিম আসাম – ২৫০
পশ্চিম-মধ্য আসাম – ২০০
মধ্য আসাম – ১২০
পূর্ব আসাম – ১৫০
দক্ষিণ আসাম – ২৮০
মেঘালয়
দক্ষিণ-পশ্চিম মেঘালয় – ২০০
পশ্চিম-মধ্য মেঘালয় – ২২০
পূর্ব-মধ্য মেঘালয় – ১৫০
দক্ষিণ-মধ্য মেঘালয় পূর্ব – ৪০০
দক্ষিণ-মধ্য মেঘালয় পশ্চিম – ৩০০
মধ্য মেঘালয় – ২০০
চেরাপুঞ্জি – ৫৫০
উত্তর-পূর্ব ভারত
দক্ষিণ-পশ্চিম অরুণাচল – ২০০
মধ্য ত্রিপুরা – ২৭০
ত্রিপুরা-মিজোরাম সীমান্ত – ২৮০
মধ্য মণিপুর – ১১০
মধ্য নাগাল্যান্ড – ১২০
উত্তর মিজোরাম – ১৩০
দক্ষিণ মিজোরাম – ১০০
—————————
*এখানে দেওয়া বৃষ্টির পরিমান একটা গড় ধারনা মাত্র, স্থানভেদে এর পরিমান কিছুটা হেরফের হতেপারে। ও দেশের কোন কোন ক্ষুদ্র এলাকায় কিছুটা বেশি বৃষ্টি হতে পারে ও কোন ক্ষুদ্র স্থানে বৃষ্টি অনেক কম হতে পারে।
নোট : প্রাকৃতিক কারনে বৃষ্টি বলয় ঝুমুল এর সময়সূচি কিছুটা পরিবর্তন ও এর শক্তি কিছুটা হ্রাস, বৃদ্ধি বা বিলুপ্ত হতেপারে।
পূর্বাভাস তৈরি : Bangladesh Weather Observation Team Ltd. (BWOT)
[Copyright : বাংলাদেশে BWOT একমাত্র আবহাওয়া সংস্থা যারা বৃষ্টি বলয় নামকরন করে বৃষ্টিবলয়ের পূর্বাভাস করার প্রচলন করে। তাই BWOT ব্যাতিত আর কেউ বৃষ্টি বলয় নামকরণ করে পূর্বাভাস করে বিভ্রান্তি তৈরি করা থেকে বিরত থাকুন]
*DISCLAIMER: এটা শুধুমাত্র আমাদের গবেষণায় পাওয়া তথ্য, কোনো সরকারি পূর্বাভাস বা সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি না এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত অফিসিয়াল পূর্বাভাসের জন্য সবাই বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করুন।
এবং এই পূর্বাভাসের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই অফিসিয়াল সংস্থার সাথে যোগাযোগ করুন, অথবা তাদের পূর্বাভাস অনুসরণ করুন।
সূত্রঃ Bangladesh Weather Observation Team Ltd
All rights reserved © 2020-2024 dainikparibarton.com
অনুমতি ব্যতিত এই সাইটের কোনো কিছু কপি করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।